আরজি কর মেডিকেল কলেজ, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কর্তৃক ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় বর্ষ পিজি ইন্টার্নের গণধর্ষণ ও খুনের বিচারের দাবিতে গত ১২/০৮/২০২৪ থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে জাতীয় স্তরে আরো অনেক সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা, এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার, দোষীদের ও তাদের আড়াল করতে চাওয়া, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কর্মবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের উচ্চপদস্থ, প্রভাবশালী ধর্ষক ও খুনিদের আড়াল করতে গোটা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে এক অচলায়তনের সম্মুখীন দাঁড় করিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেস আইটি সেল, আন্দোলকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে, তাদের উপর কুৎসিত ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে, কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় "রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে" বলে, চিকিৎসকদের ন্যায্য দাবীর আন্দোলনের বিরুদ্ধে, সুপরিকল্পিতভাবে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। নির্লজ্জতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে, আগামীকাল অর্থাৎ ১৭/০৮/২০২৪ থেকে তৃণমূল সমস্ত এলাকায় চিকিৎসকদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে পথে নামছে।
শহরের একটি খ্যাতনামা হাসপাতালের চিকিৎসকই যদি সুরক্ষিত না থাকে, তবে গ্রাম বাংলা থেকে আসা রোগীদের সুরক্ষা রয়েছে কতটা তা বলাই বাহুল্য। বিভিন্ন মাধ্যম হতে জানা যাচ্ছে, পূর্বেও নানান মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের "রহস্যময় মৃত্যু"কে, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে। এই পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের ঘটনা হর হামেশাই ঘটবে এবং রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে ধর্ষণ-খুনী পার পেয়ে যাবে। এ আন্দোলন শুধু চিকিৎসকদের নয়, এ আন্দোলন দেশ বিদেশের প্রত্যেকটি সচেতন নারী-পুরুষের আন্দোলন।
তাঁরা আরো বলেন, আমরা বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন(বাংলাদেশ), ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনরত সকল চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সকলকেই সংগ্রামী অভিবাদন জানাই এবং তাদের আন্দোলনের সাথে পূর্ণ সমর্থন জানাই। অবিলম্বে আরজি কর মেডিকেল কলেজের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
