ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নতুন শাসকশ্রেণি হিসেবে সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট বিজেপির উত্থান : যেকোনো সাম্প্রদায়িক কর্মকান্ডকে কঠোরভাবে বিরোধিতা করতে হবে।
দীর্ঘ ৪৬ বছর পর সম্প্রতি ৪মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের অধিক আসনে জিতে সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট বিজেপি সরকার গঠন করেছে। ৯মে সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতিবাজ সাম্প্রদায়িক শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। বিজেপি নির্বাচনের আগে হিন্দু ও মুসলমান মিলে এসআইআর(SIR) এর নামে প্রায় ৯২ লক্ষ নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এ থেকে বুঝা যায়, নির্বাচনে জেতার জন্য এরা কীভাবে মাস্টারপ্ল্যান করেছিল। মাস্টারপ্ল্যানের এই নির্বাচনে নির্বাচনী প্রচারের সময় তারা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের 'বাংলাদেশি', 'জিহাদি' ইত্যাদি বলে প্রচার করেছে, এমনকি জয়ী হওয়ার পরও মুসলমানরা তাকে ভোট দেয়নি বলে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। খোদ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এদেশের বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ভারতে পলাতক আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে নামাবে বলে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। বিজেপি নির্বাচনে জেতার পর মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলা হয়েছে, তাদের দোকান লুট হয়েছে, বিভিন্ন মাংসের দোকান বন্ধ হয়েছে, লেনিনের ভাস্কর্য ভাঙ্গা হয়েছে। বামপন্থী দলগুলো এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।
বিজেপির এই উত্থানের পিছনে শুধু যে তাদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই ভূমিকা রেখেছে তা নয়। মমতা সরকারের বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসন, চুরি, দুর্নীতি, বেকার সমস্যা, প্রাইমারি শিক্ষকদের চাকরি চলে যাওয়া, বিরোধীমত দমন, অভয়া কান্ড, আরজি কর কান্ড, সন্দেশখালি কান্ড এবং মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় দুর্গাপূজায় চাঁদাদাবি কিংবা পূজা না করতে দেওয়া, মমতার মুসলিম তোষণ নীতি ইত্যাদিও বড় ভূমিকা রেখেছে। তাই এত এত প্রকল্প করেও শেষরক্ষা হয়নি মমতার।
হারার পর মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগও করেনি তাঁকে হারানো হয়েছে এই অজুহাতে। অন্তত ১০০টি জায়গায় ফলাফল ওমন লরা হয়েছে বলে সে অভিযোগ করেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির সেবাদাস এই কথাও তারা বলেছে। এমনকি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও উত্তরপ্রদেশের নেতা অখিলেশ যাদবও বলেছে মমতা ব্যানার্জির দলকে হারানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া দলগুলোও এখন একে অপরকে বিশ্বাস করে না। এই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথাকথিত "গণতান্ত্রিক' দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা। যে নির্বাচনী ব্যবস্থায় শাসকশ্রেণির অন্যান্য দলগুলোরই কোনো আস্থা নাই। আসলে এই নির্বাচনী ব্যবস্থায় যে শুধু তাদের আস্থা নেই তা নয়, জনগণেরও নেই। জনগণের সিস্টেমের কারণে ভোট দিতে যায় একটু উন্নতি আর শান্তির আশায়। দিনশেষে তাদের কোনো উন্নতি হয়না। উন্নতি হয় নেতাদের। তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। কংগ্রেস আমলে যেমন ছিল, ঠিক তৃণমূল আমলে, তেমনি সিপিএম আমলে, তেমনি বিজেপি আমলেও হবে।
বিজেপি যত প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় আসুক না কেন সাধারণ মানুষের মূল সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। তাই নির্বাচনী ডামাডোলে আটকে না থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ নিপীড়িত জনগণের উচিত তাদের অধিকারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। এই লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক-নারী-আদিবাসীসহ নিপীড়িত জাতি ও জনগণের ক্ষমতায়নই মুক্তির একমাত্র পথ।
