গত ২১ তারিখ চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাও বাহির সিগনাল এলাকায় অটোরিকশা চালকদের শান্তিপূর্ণ ন্যায়সঙ্গত অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হামলা, লাঠি চার্জের ঘটনা ঘটিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গাতে সড়কের নিরাপত্তা, যানজট নিরসনে কথা বলে অটোরিকশা বন্ধের একধরণের অপতৎপরতা চলছে। বিগত কয়েক দিনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৩ হাজারের অধিক গাড়ি জব্দ করেছে এই পুলিশ ও প্রশাসন। এখনো অব্যাহতভাবে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি জব্দ করছে আর চালকদের হেনস্তা করছে।
তাঁরা বলেন, একদিকে অটোরিকশাকে অবৈধ বলা হচ্ছ, অপরদিকে বিদুৎ বিভাগ ব্যাটারি চালিত যানের জন্য বিদ্যুতের দাম ঠিক করে দিয়েছে। এবং পাশাপাশি চলছে এই নিরীহ চালক-শ্রমিকদের উপর চাঁদাবাজি। বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের পেটে লাথি মারার ব্যবস্থা করেছে। সরকারের দ্বিচারিতা বৈশিষ্ট্য নতুন নয়। শাসকশ্রেণি নিজ স্বার্থে বরাবরই শ্রমিক এবং শ্রমিকের অধিকার খর্ব করেছে। হাসিনা আমলেও শ্রমিকেরা নিপীড়িত ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারও একই কায়দায় শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে যৌথবাহিনি দিয়ে গুলি চালিয়ে আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করার কৌশল নিয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনসহ প্রত্যেক আন্দোলনেও একই চিত্র। শ্রমিকবান্ধব সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হলে শ্রমিকদের উপর এই নিপীড়ন অব্যাহতভাবেই চলবে।
তাঁরা বলেন, এ অটোরিকশা বিগত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় শাসকশ্রেণির কোনো অংশই আমদানি করেছে। শ্রমিকদের সাধ্য নেই লক্ষ লক্ষ রিকশা আমদানি করার। আজ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ ও রাস্তায় যানজট, দুর্ঘটনার কথা বলে অটোরিকশা বন্ধের পাঁয়তারা করছে। যা অটোরিকশা শ্রমিকদের সাথে প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। যানজট ও দুর্ঘটনার জন্য অটোরিকশা দায়ী নয়, দায়ী ট্রাফিক সিস্টেম এবং সড়কে পরিবহন ব্যবস্থা। রিকশা চলাচলে আলাদা লেন তৈরি করা হলে এই সমস্যা নিরসন অনেকটাই সম্ভব। কিন্তু এইসবের মধ্যেও নির্লজ্জের মতো চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন নগরবাসী যাতে ব্যাটারি রিকশায় চড়া থেকে বিরত থাকে। এইসব বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও বেসামাল করে দেয়।
তাঁরা আরও বলেন, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন এই সরকারের অটোরিকশা বন্ধের এই ঘৃণ্য গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানায়। এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র এবং সরকার শ্রমিকদের দাবি পূরণে ব্যর্থ। কারণ এই রাষ্ট্র শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র নয়। এই রাষ্ট্র পুঁজিপতি শ্রেণির রাষ্ট্র। শ্রমিকদের অধিকার আদায় করতে হলে শ্রমিকদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বুর্জোয়াদের সরকার ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের রাষ্ট্র-সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে তুলুন।
আওয়াজ তুলুন :
১। অটোরিকশা চলাচলের জন্য আলাদা বাই লেনের ব্যবস্থা করতে হবে!
২। জব্দকৃত অটোরিকশা শ্রমিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে!
৩। ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে পুলিশ-সেনাবাহিনীর হয়রানি বন্ধ কর, করতে হবে!
৪। জব্দকৃত অটোরিকশা শ্রমিকদের ফিরিয়ে দিতে হবে!